চিকিৎসায় অবহেলা ও ভুল রিপোর্টের বলি নবজাতক: ক্ষোভে ফুঁসছে ফকিরহাট
খুলনা প্রতিনিধি |
ভুল আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট এবং চিকিৎসায় চরম অবহেলার কারণে আরও একটি অবুঝ শিশুর প্রাণ যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ মে (২০২৬) খুলনার একটি বেসরকারি হেলথ কেয়ার হসপিটালে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। একের পর এক এমন দুর্ঘটনার পরও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা এবং অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকির ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও গুরুতর অভিযোগ
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, সিজারিয়ান অপারেশনের মাত্র আট দিন আগে করা আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী গর্ভস্থ শিশুর ওজন উল্লেখ করা হয়েছিল ২ কেজি ৫০০ গ্রাম। তবে অপারেশনের পর দেখা যায় নবজাতকের প্রকৃত ওজন মাত্র ১ কেজি ৬০০ গ্রাম। চিকিৎসকদের এমন মারাত্মক ভুল ও দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কারণে জন্মের পরপরই শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে।
জরুরি ভিত্তিতে লাইফ সাপোর্টের জন্য শিশুটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলেও সেখানে কোনো বেড খালি পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটিকে ভর্তি করা হয়, যেখানে প্রতি ঘণ্টার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে গুণতে হয়েছে ৪৫০০ টাকা। সুচিকিৎসার সব রকম চেষ্টা সত্ত্বেও তিন দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যায় অবুঝ শিশুটি।
অভিযোগ উঠেছে, এই মৃত্যুর পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে মাঠে নামে হসপিটাল কর্তৃপক্ষের প্রভাবশালী চক্র। হাসপাতালের ‘মাহবুব’ ও ‘রনি’ নামের দুই ব্যক্তি স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এ্যাসিল্যান্ডের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছ থেকে জোরপূর্বক মূল মেডিকেল রিপোর্ট ও কাগজপত্র রেখে দিয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, এই হাসপাতালেই এর আগে ওপারেশনের সময় শিশুর মাথা কেটে ফেলার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ঘটনা ঘটেছে দুটি এবং অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে আরও একটি শিশুর। একের পর এক এমন ভয়াবহ অপরাধ ঘটে চললেও ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর প্রশ্ন— আর কত শিশুর প্রাণ গেলে টনক নড়বে প্রশাসনের? এই মৃত্যুর সম্পূর্ণ দায়ভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধানকে নেওয়ার দাবি জানিয়ে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।